35/2, Sangsad Avenue, Monipuripara, Dhaka, Bangladesh

Follow Us

Follow us on Social Network

UX/UI Design

UI, UX ডিজাইনের আদ্যোপান্ত

By, Ashiq Mujtahid
  • March, 2023

ক্রমবর্ধমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে বহুল ব্যাবহিত শব্দযুগলের মধ্যে UI, UX ডিজাইন অন্যতম। আমরা যারা কাজের খাতিরে বা নিজস্ব আগ্রহে তথ্য প্রযুক্তির সেবাগুলো ব্যাবহার করি কমবেশি সবাই এই ফ্রেজ টার সাথে পরিচিত। কিন্তু এই UI, UX ডিজাইন কি? আসুন সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক।
শুরুতেই বলে নেয়া ভাল UI, UX ডিজাইন একই ফ্রেজে উচ্চারিত হলেও দুইটা ভিন্ন জিনিষ। তাই প্রথমত আমরা UX ডিজাইন নিয়ে আলাপ করব।
UX ডিজাইনের অর্থ হল ইউজার এক্সপেরিএন্স। এখন প্রশ্ন হল ইউজার এক্সপেরিএন্স আবার কি? আসুন উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি। মনে করুন, মিস্টার করিম বাসা থেকে অফিস যাবেন। এক্ষেত্রে তিনি পাবলিক পরিবহণ বা নিজস্ব পরিবহণ ব্যাবহার করতে পারেন। এরপর তিনি লিফট ব্যাবহার করে নির্দিষ্ট ফ্লোরে পৌঁছলেন। এখানে, মিস্টার করিম হচ্ছেন ইউজার বা ব্যাবহারকারি। অফিস হচ্ছে গন্তব্য। পাবলিক পরিবহণ বা নিজস্ব পরিবহণ, লিফট এগুলো হচ্ছে উনার এক্সপেরিএন্স। আর পৌঁছানোর সময়ব্দি তিনি যেসব কাজ করেন যেমন পাবলিক পরিবহণ ব্যাবহার করলে, পরিবহণ কে থামার ইশারা দেয়া, পরিবহণ এ ওঠা, ভাড়া দেয়া ইত্যাদি, লিফট এর জন্য অপেক্ষা করা, সুইচ প্রেস করা এগুলো হল কাজ বা টাস্ক। আবার মনে করুন আপনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করবেন। এখানে, আপনি হচ্ছেন ইউজার। পোস্ট করা হচ্ছে আপনার উদ্দেশ্য বা গোল। ফেসবুক হচ্ছে এক্সপেরিএন্সে আর আপনি যে পোস্ট লিখছেন সেটা হচ্ছে আপনার কাজ বা টাস্ক। একজন ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইনারের কাজ হচ্ছে সেই ইউজার কে তার গোল বা গন্তব্যে কত সহজে ও সুন্দর ভাবে পৌছে দেয়া যায় সেটা ডিজাইন বা নকশা করা। আর UX ডিজাইন হল সেই নকশা। তো UX ডিজাইনের অর্থ কি দাঁড়াল? ইউ এক্স ডিজাইন হচ্ছে কোনো প্রোডাক্ট, সার্ভিস বা সিস্টেম কে এমন ভাবে সাজানো যেন তার ব্যাবহারকারী বা ইউজার তার গোল বা গন্তব্যে সবচেয়ে সহজ ও সুন্দর ভাবে পৌছাতে পারে। এক কথায় বললে, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন হচ্ছে কোনো প্রোডাক্ট, সার্ভিস বা সিস্টেম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর যে অভিজ্ঞতা তার বা স্কেচ নকশা।
এবার আসা যাক UI ডিজাইন প্রসঙ্গে। UI ডিজাইন অর্থ হল ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন। ইউজার বা ব্যাবহারকারির চাহিদা, আশা-আকাংখা, সামর্থ্য, পারিপার্শিক অবস্থা ও তাদের মূল সমস্যার সমাধান ও তাদের সব রকমের ইনফরমেশন হাতে নিয়ে একটি প্রোডাক্ট, সিস্টেম বা সার্ভিস ডিজাইন করাটাই হচ্ছে UI ডিজাইন বা ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন।
এক্ষেত্রে সবসময় মনে রাখতে হবে, ইউজার বা ব্যাবহারকারির চাহিদা, আশা-আকাংখা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতেই পারে। যেহেতু UI ডিজাইন বা ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন সম্পূর্ণভাবে ইউজারের চাহিদা, আশা-আকাংখার উপর নির্ভরশীল, তাই একটি ডিজাইন ও একটি স্ট্রাটেজিই সবসময় গ্রহণযোগ্য হবে এমন টা ভাবলে চলবেনা। সুতরাং একটি পরিপূর্ণ UI ডিজাইন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে Apple ও Samsung ফোনের মধ্যে তুলনা করলে অনেক ব্যবহারকারীই Apple কে প্রাধান্য দিবেন। এর কারণ হচ্ছে, অধিকাংশ ব্যাবহারকারীর কাছে Samsung এর তুলনায় Apple এর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স যথেষ্ট ভালো ও গ্রহণযোগ্য। আর এটাই Apple এর UI ডিজাইনারদের সাফল্য। তারা অধিকাংশ ব্যাবহারকারীকে Samsung এর তুলনায় উত্তম, আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য ইউজার এক্সপেরিএন্সে দিতে পেরেছে। এজন্য বলা হয়ে থাকে-
User Experience Design is a long & continuous process…
এবার আসুন জেনে নেয়া যাক UX ডিজাইনের উৎপত্তি ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
ইউএক্স এর উৎপত্তি মূলত আরগোনোমিক্স (Ergonomics) থেকে। আরগোনোমিক্স (আর্গন- কাজ এবং নমস- নীতি) হল মানুষের কর্মদক্ষতার সাথে কাজের পরিবেশ, কাজে ব্যবহৃত বস্তু সমুহের গঠন এবং সেই সাথে ব্যবহারকারীর ব্যবহারকে গবেষণা ও আলোচনা করা। প্রাচীন গ্রিসে সর্বপ্রথম আরগোনোমিকস এর চর্চা শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে একজন ব্রিটিশ সাইকলোজিস্ট ২য় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধলব্ধ শিক্ষাকে মূল্যায়ন করার উদ্দেশ্যে “আরগোনোমিক্স সোসাইটি” প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর দ্রুতই হিউম্যান ফ্যাক্টরস চর্চা প্রসার লাভ করে এবং বিভিন্ন বস্তুর সাথে মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা শুরু হয়। ১৯৫৫ সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার হেনরি ড্রিফাস “ডিজাইনিং ফর পিপল” নামে একটি বিখ্যাত বই লেখেন। এখানে তিনি মানুষ, তাদের অভিজ্ঞতা ও সফল প্রোডাক্ট ডিজাইনের মধ্যকার সম্পর্ক তুলে ধরেন। এই বইকে আমরা ইউএক্সের একটি মাইলফলক হিসাবে ধরতে পারি। সত্তরের দশকে পার্সোনাল কম্পিউটার প্রসার লাভ করতে থাকে এবং এক্ষেত্রে ডিজাইন জোরাল ভূমিকা রাখে। অবশেষে ১৯৯৫ সালে, অ্যাপলে কাজ করার সময় বিখ্যাত কগনিটিভ সাইকোলজিস্ট ও ডিজাইনার ডন নরম্যান “ইউজার এক্সপেরিয়েন্স” তথা “ইউএক্স” টার্মটি প্রথম ব্যবহার করেন। এরপর খুব তাড়াতাড়ি এই টার্ম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ডিজাইন-ডেভেলপমেন্টের অন্যান্য টার্মের মাঝে নিজের স্থান করে নেয়। মূলত, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএক্স নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের যথাসম্ভব সুষ্ঠু এবং চমৎকার অভিজ্ঞতা দেবার লক্ষেই ইউএক্স ডিজাইন সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতক্ষণে আমরা UI, UX ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা পরিস্কার হয়েছে বলে ধরে নেয়াই যায়। তাহলে এবার UI, UX ডিজাইনার সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। ডিজাইনার জগতটা মূলত বিশাল একটা সেক্টর। এই সেক্টরে রয়েছে গ্রাফিক ডিজাইন, টেক্সটাইল ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফ্যাশন ডিজাইন, সিরামিক ডিজাইন, প্রিন্ট ডিজাইন ও আরও অনেক। এখানে UI, UX ডিজাইন একটি অধ্যায় মাত্র। তাই কেউ যদি নিজেকে শুধুমাত্র ডিজাইনার বলে পরিচয় দেয় তাহলে সে আসলে কোন ডিজাইনার তা বোঝা যায় না। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির সীমাহীন অগ্রগতির এই যুগে UI ও UX ডিজাইনাররা সামনের দিনগুলোতে আরও লক্ষণীয় ও অপার ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে এই সেক্টরে।
আমরা আগেই জেনেছি যে, UX ডিজাইনাররা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে কাজ করেন সেখানে UI ডিজাইনাররা কাজ করেন ইন্টারফেস ডিজাইন নিয়ে। কোনো আইটি প্রোডাক্ট ডেভেলপের ক্ষেত্রে এই দুই ধরনের ডিজাইনারদের একসাথে কাজ করতে হয়। আলাদা আলাদা কাজ হওয়া সত্ত্বেও দিনশেষে এই সেক্টরের ডিজাইনাররা একে অপরের উপরে অনেকাংশেই নির্ভরশীল। UX ডিজাইনারের অনেক গুলো ধাপ আছে। ডিজাইনারদের মূলত এই ধাপগুলো অনুসরণ করেই সামনে আগাতে হয়। UX ডিজাইনের প্রথম ধাপটাই হচ্ছে ইউজার রিসার্চ। একটি প্রোডাক্ট, সিস্টেম বা সার্ভিস ডিজাইন করার পূর্বে অবশ্যই সেই সিস্টেম এর ইউজার গ্রুপ নিয়ে রিসার্চ করতে হবে।
ইউজার গ্রুপের চাহিদা, আশা-আকাংখা, পারিপার্শিক অবস্থা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, একটি দেশের জনসংখ্যার হার নিয়ে গবেষণা করার জন্য একটি মোবাইল এ্যাপ ডিজাইন করতে হবে। এখন যদি তাদের সম্পর্কে কিছুই না জেনে ডিজাইন করতে বসা হয় তাহলে সেটা হবে অ-আ ক-খ না জেনেই গরু রচনা লিখতে বসার মতো। রচনা হয়তো লিখা হবে, কিন্তু সেটা আর পড়ার যোগ্যতা বহন করবেনা। আবার একটা প্রোডাক্ট , সিস্টেম বা সার্ভিস এর কয়েক ধরনের ইউজার গ্রুপ থাকতে পারে।
উদাহরস্বরুপ, ফেসবুক এর অনেক ধরনের ইউজার গ্রুপ আছে। এর মধ্যে বয়স্ক- যারা হয়তো শুধুমাত্র ফেসবুক ব্যবহার করেন নিউজ বা বিভিন্ন খবরাখবর পাওয়ার জন্য। রেগুলার ইউজার গ্রুপ- তারা হয়তো তাদের বন্ধুবান্ধব এর বিভিন্ন আপডেট পাওয়ার জন্য, কিংবা নিজের স্ট্যাটাস, ফটো আপলোড এর জন্য ফেসবুক ব্যবহার করছে। কেউ কেউ হয়তো কোনো রকম নির্দিষ্ট পোস্ট পড়ার জন্য ফেসবুক এ আসেন, কেউ হয়তো ভিডিও দেখতে আসেন, কেউ পড়ালেখার কাজে আসেন ইত্যাদি অসংখ্য ইউজার গ্রুপ। খেয়াল করলে দেখা যাবে যে আমরা যা পছন্দ করি ফেসবুক আমাদের ঠিক তাই দেখায়। প্রতিনিয়ত ফেসবুক ইউজার রিসার্চ করেই যাচ্ছে। মানুষ কে আরো গভীর ভাবে চেনা বা জানা, তাদের প্রতিটি আকশান বা আচরন এর পেছনের ঘটনা বোঝার চেষ্টা করা, যা থেকে দারুন সব তথ্য উপাত্ত বের করা সম্ভব। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করা কিংবা কোন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। একটি প্রোডাক্ট, সিস্টেম বা সার্ভিস ডিজাইন করার সময় সেই ইউজার দের চাহিদা, সীমাবদ্ধতা, আশা-আকাংখা, টেকনোলজিক্যাল দক্ষতা, পারিপার্শিক অবস্থা এমন কি আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি সম্পর্কেও জানা উচিত। রিসার্চ এর মাধ্যমে সঠিক বিজনেস স্ট্রাটেজি বের করা সম্ভব। রিসার্চ সঠিক সময়ে - সঠিক জিনিস - সঠিক ইউজার দের জন্য ডিজাইন করতে সাহায্য করে।
ইউ এক্স রিসার্চ মূলত ৪ (চার) ধরনের হয়।
• Attitudinal: মানুষ কি কি বলে সেই বিষয় গুলো নিয়ে রিসার্চ
• Behavioral: মানুষ কি কি করে সেই বিষয় গুলো নিয়ে রিসার্চ
• Qualitative: প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটি বা মান সম্পর্কিত রিসার্চ
• Quantitative: পরিমান বা সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় এমন ধরনের রিসার্চ
ইউ এক্স রিসার্চ এর প্রয়োজনীয়তা মূলত প্রধান ৩ টি ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
• একটি প্রোডাক্ট এর সঠিক, তথ্যবহ ও প্রাসঙ্গিক ডিজাইন করা।
• সহজ ও সুন্দর প্রোডাক্ট ডিজাইন এ ভূমিকা পালন করা।
• অতিরিক্ত খরচ ও ভুল-ভ্রান্তি যথাসম্ভব কমানো এবং বিজনেস ও ডিজাইন এর ROI বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট।
এবার রিসার্চ মেথড নিয়ে আলাপ করা যাক। রিসার্চ মেথড হচ্ছে যে যে উপায়ে রিসার্চ করা হয়ে থাকে। যেমনঃ
• ইউজার ইন্টারভিউঃ বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে ইউজার এর নানারকম সমস্যা সম্পরকে অবগত হওয়া ও তার সমাধান এর উপায় খুজে বের করা। ইউজার ইন্টারভিউ আবার দুই ধরনেরঃ
 ওপেন ইন্টারভিউঃ রিসার্চার যে কোন টপিক বা সমস্যা নিয়ে কথা বলা বা শুনার জন্য তৈরি থাকেন।
 ক্লোজড ইন্টারভিউঃ রিসার্চার শুধু মাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যক টপিক বা প্রোডাক্ট এর ফিচার নিয়ে কথা বলেন।
• ইউজ্যাবিলিটি টেস্টঃ কোন সিস্টেম, সার্ভিস বা প্রোডাক্ট এর নির্দিষ্ট ফিচার এর উপরে ইউজারদের আচরন ও ব্যবহার বোঝা।
ইউজ্যাবিলিটি টেস্ট দুই ধরনের হয়ে থাকেঃ
 Moderated Usability Test.
 Unmoderated Usability Test.
• ইউএক্স সার্ভেঃ সার্ভে নানারকম ভাবে করা সম্ভব এবং এখান প্রচুর ইউজার বা পার্টিসিপেন্ট নিয়ে কাজ করা সম্ভব। সার্ভে মূলত দুই ধরনের হয়ঃ
 Structured or Closed: কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রশ্ন করা। এখানে নানারকম প্রশ্ন থাকতে পারে, যেমনঃ
 ক্যাটাগরিকাল প্রশ্নঃ যখন আমরা শুধু কিছুর সংখ্যা বা নির্দিষ্ট উত্তর জানতে চাই, যেমনঃ হ্যা, না সুচক প্রশ্ন।
 ফিল্টারিং প্রশ্নঃ এই ধরনের প্রশ্নে নির্দিষ্ট কিছু অপশন দেয়া থাকে। যেমনঃ সকালের নাস্তায় আপনি কি পছন্দ করবেন? মিল্ক, জুস, নাকি পানি।
 Unstructured or Open: পার্টিসিপেন্ট এর কাছ থেকে খোলাখুলি মতামত চাওয়া হয়ে থাকে, যা থেকে প্রচুর তথ্য কালেক্ট করা সম্ভব। এখানে আবার ভিন্নধর্মী প্রশ্ন থাকে, যেমনঃ
 ওপেন কোশ্চেনঃ ওপেন কোশ্চেন এ কোন নির্ধারিত উত্তর এর বদলে মূলত বিস্তারিত ভাবে কোন কিছু জানার জন্য প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। যেমনঃ সকালের নাস্তায় আপনি সাধারনত কি কি পছন্দ করেন এবং কেনো?
 ফলো আপ কোশ্চেনঃ ফলো আপ কোশ্চেন সাধারনত কোন একটি প্রশ্ন কে আরো গভীর ভাবে জানার জন্য করা হয়ে থাকে। যেমনঃ উপরে প্রশ্নে সকালের নাস্তায় আপনি যা খেতে পছন্দ করেন বলে বলেছেন, তার সাথে কি আপনার ফিটনেস বা অন্য কোন কারন জড়িত? এছাড়াও সার্ভে তে আরো কিছু প্রশ্নের ধরন আছে যেমন, ডেমোগ্রাফিক কোশ্চেন, লাইকার্ট স্কেল ইত্যাদি। সার্ভে মূলত দুইটি উপায়ে করা যায়ঃ
• অনলাইন সার্ভে।
• অফলাইন সার্ভে।
এছাড়াও আরো অনেক ধরনের রিসার্চ মেথড আছে যেগুলো পরিস্থিতি ও প্রয়োজন সাপেক্ষে করা হয়ে থাকে। যেমন,
• স্টেকহোল্ডার ইন্টারভিউ।
• জার্নি ম্যাপিং।
• কার্ড সর্টিং।
• এ/বি টেস্টিং।
• এনালিটিক্স রিভিউ।
• হিউরিস্টিক ইভ্যালুশন ইত্যাদি।
Problem Identify: ইউএক্স ডিজাইনের দ্বিতীয় ধাপটি হল Problem Identify (ইউজার এর Problem Identify). ইউজার রিসার্চ এর সময় সেই ইউজার বা ইউজার গ্রুপ এর মূল সমস্যাটা কোথায় তা বের করাটাই হল ইউজার এর Problem Identify । একটি ইউজার গ্রুপ সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে জানার জন্য সেই ইউজার গ্রুপ এর সাথেই যোগাযোগ করতে হবে কথা বলতে হবে । যেটা কে বলা হয় ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (Focus Group Discussion)। তাদের সাথে আলোচনা করে তাদের সমস্যা সম্পর্কে আরো ভালো ভাবে জানতে হবে এবং একমাত্র তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই তাদের চাহিদা, সামর্থ্য, আশা-আকাংখ্যা, পারিপার্শিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
টাস্ক এনালাইসিস (Task Analysis): টাস্ক এনালাইসিস হচ্ছে সিস্টেম, সার্ভিস বা প্রোডাক্ট এর ইউজার গ্রুপ কে খুব কাছে থেকে যাচাই করা। ইউজার গ্রুপ এর পারসোনা (Persona) ও সিনারিও (Scenario) তৈরী করতে হয়। পারসোনা বলতে প্রতিটি ইউজার গ্রুপ এর নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশা, কর্মস্থল, পারিবারিক অবস্থা ইত্যাদি সংগ্রহ করা এবং সিনারিও বলতে সেই ইউজার গ্রুপের জীবন বৃত্তান্ত অর্থাৎ তার প্রতিদিন কার দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা, ও চালচলন ইত্যাদি সংগ্রহ করা ও লিপিবদ্ধ করা কে বোঝায়। টাস্ক এনালাইসিস এর মূল উদ্যেশ্য হচ্ছে-
• ইউজার এর মূল লক্ষ বা গোল টা কি।
• ইউজার সেই গোল বা লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য কি কি টাস্ক বা কাজ সম্পাদন করে।
• টাস্ক বা কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে তারা কি কি বাধার সম্মুক্ষিন হয়
• ইউজার এর পারিপার্শিক অবস্থা সেই গোল বা লক্ষ্যে পৌছানোর সময় কেমন প্রভাব ফেলে।
• গোল বা লক্ষ্যে পৌছানোর সময় ইউজার এর আগের অভিজ্ঞতার কোনো প্রভাব আছে কি না।
কার্ড সর্টিং (Card Sorting): ইউজার গ্রুপের এর সব ধরনের প্রবলেম খুঁজে বের করার পর এখন সময় এর সমাধান করা। দেখা যাবে যে, এমন কিছু সমস্যা আছে যেটা সমাধান করলেই হয়তো ৯০% সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে কার্ড সর্টিং। এই কার্ড সর্টিং দুই ধরনের-
• ওপেন কার্ড সর্টিং
• ক্লোজড কার্ড সর্টিং।
গুগল, মাইক্রোফট এর মত কোম্পানি গুলো কার্ড সর্টিং এর মাধ্যমেই তাদের হাজারো সমস্যা কে মাত্র কয়েক টি সমস্যায় নিয়ে আসে। সঠিক ভাবে কার্ড সর্টিং করা হলে হাজারো সমস্যা থেকে গুটিকয়েক সমস্যা পাওয়া যায় এবং সেগুলো সমাধান করা যায়। এরপর সেই সমাধানগুলো থেকে পাপ্ত ইনফরমেশন নিয়ে তৈরি করা হয় ইনফরমেশন আর্কিটেকচার।
ওয়্যারফ্রেম ও স্কেচিং (Wireframe & Sketch): অনেকেই UI (User Interface) ডিজাইন করার সময় প্রথমেই কোনো টুল বা সফটয়্যার দিয়ে ডিজাইন করা শুরু করে দেয়। কিন্তু এর ফলে অনেক রকমের সমস্যায় পড়তে হয়। বার বার নানারকম অংশ পরিবর্তন পরিবর্ধন করতে হয়। কিন্তু যদি প্রথমেই পেন্সিল দিয়ে খাতায় সম্ভাব্য UI এর একটি স্কেচ করে নেয়া যায় যা থেকে খুব সহজেই মুছে বা এঁকে পরিবর্তন করা যাবে তাহলে কাজ টা আরো সহজ হয়ে যায়। একেই বলে ওয়্যারফ্রেম। এই ওয়্যারফ্রেম হাতে করাটাই সবচেয়ে ভালো তবে কম্পিউটার টুলস দিয়েও করা সম্ভব।
প্রোটোটাইপিং ও ইউজাবিলিটি টেস্টিং (Prototyping & Usability Testing): প্রোটোটাইপ হচ্ছে প্রোডাক্ট এর ডেমো ডিজাইন/কাঠামো বা Shape। ইউজার এর কাছ থেকে প্রোটোটাইপ এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট টি ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের এক্সপেরিএন্স নোট করা হয়। অপরদিকে ইউজার কে দিয়ে প্রোডাক্ট টেস্টিং বা যাচাই এর মাধ্যমে যেই ফলাফলটা পাওয়া যায় সেটাই হচ্ছে Usability Testing অর্থাৎ প্রোডাক্ট টি ইউজার এর কাছে কতটুকু ব্যবহার যোগ্য।